প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের শেয়ারবাজারে আগামীকাল লেনেদেন হতে যাওয়া আমরা নেটওয়ার্কসের শেয়ার দর কেমন হতে পারে--এ নিয়ে বিনিযোগকারীদের মধ্যে চলছে সরব আলোচনা। কোম্পানিটির পক্ষের-বিপক্ষের বিনিয়োগকারীদের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি ও প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
যেসব বিনিয়োগাকরী কোম্পানির শেয়ার আইপিওতে বরাদ্দ পেয়েছেন, শেয়ারটিকে কেন্দ্র করে তাদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। আর যারা আইপিও বরাদ্দ পাননি, তাদের শেয়ারটি সম্পর্কে আগ্রহ কম। যারা আইপিওতে শেয়ার পাননি, কিন্তু আগামীকাল বা লেনদেন হওয়ার পর সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে শেয়ারটি কিনতে চান, তাদের ভাবনা কিছুটা নীচু মানের। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যারা শেয়ারটির কাট-অপ প্রাইসে বরাদ্দ পেয়েছেন, শেয়ারটির উচ্চ দর সম্পর্কে তাদের প্রত্যাশাও কম নয়।
জানা যায়, আগামীকাল কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেন হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হলো ১৭.২১ শতাংশ বা ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৬টি। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বরাদ্দকৃত ৬০ শতাংশ বা ৯০ লাখ ১৪ হাজার ৪২৩টি শেয়ার তিন মাস ও ছয় মাস পর দুই কিস্তিতে বিক্রিযোগ্য হবে। আর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে প্লেসমেন্ট শেয়ার দুই বছর পর বিক্রিযোগ্য হবে।
কোম্পানিটি ইতোমধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকের অর্থাৎ শেষ তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ’১৭) শেয়ারপ্রতি আয় প্রকাশ করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ০.৮৬ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ০.৬৮ টাকা। আগের তুলনায় বর্তমানে শেয়ারপ্রতি বেড়েছে ২৬.৪৭ শতাংশ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আাগামীকাল যেহেতু মাত্র ১৭.২১ শতাংশ বা ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৬ লেনদেন হবে, সে কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দর ভালোই হবে। তাদের মতে, সর্বশেষ আইপিও কোম্পানি বিবিএস কেবলসের শেয়ার দর আইপিও প্রাপ্তদের আকাশকুসুম চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ এনে দিয়েছে। তাদের ধারণা, এটিও বিবিএস কেবলের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে। তবে বিবিএস কেবলসের স্বাভাবিক শেয়ার দরের কাছাকাছি থাকবে। তবে যেখান থেকে বিবিএস কেবলস কারসাজির কবলে পড়ে যে পর্যায়ে গেছে, সেটি এ কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
উল্লেখ্য, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৬০ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ৫০ শতাংশ শেয়ার ৬ মাসের জন্য লকইন থাকবে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শেয়ার ৩ মাস পর বিক্রি করতে পারবেন। বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ার ৬ মাস পরে বিক্রি করতে পারবেন। আর এই লকইন পিরিওড শুরু হবে কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস অনুমোদনের পর থেকে। কোম্পানিটির প্রসেপেক্টাস ১১ জুলাই ২০১৭ সালে অনুমোদিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬-২০১৭ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই’১৬-মার্চ’১৭) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৬২ টাকা। যা এর আগের বছর ছিল ২.৫৬ টাকা। আলোচিত সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস ২.৩৪ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে, আইপিও পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১.৮৮ টাকা। একই সময়ে শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৬.২৮ টাকা। যা ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত বছর শেষে ছিল ২৩.৬৬ টাকা।
আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা নিয়ে আগামীকাল লেনেদেন হতে যাচ্ছে আমরা নেটওয়ার্ক
Reviewed by Writews
on
October 01, 2017
Rating:
Reviewed by Writews
on
October 01, 2017
Rating:

No comments: