Keep Traveling

test

সম্পদমুল্য নিয়ে চলছে সীমাহীন কারসাজি!

পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সম্পদ পুনঃমূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে সীমাহীন কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। ইস্যু মুল্যের চেয়ে নেট এ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বেশি দেখানোর অনৈতিক কৌশলে কোম্পানিগুলোর সাথে জড়িয়ে পড়ছেন ইস্যু ম্যানেজাররা।

অভিযোগ রয়েছে, ইজারায় নেয়া ফ্যাক্টরির জমি, ভাড়ায় নেয়া যানবাহন এমনকি অফিস ইক্যুইপমেন্ট, ফার্নিচার এবং ফিটিংস পর্যন্ত কোম্পানিগুলো সম্পদ মূল্যায়নের আওতায় ধরা হচ্ছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে ইস্যু মূল্যের চেয়ে এনএভি বেশি দেখানোর অনৈতিক কৌশল।

অভিযোগে জানা যায়, যদি কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি এনএভি ২৫ টাকা হয়, সে কোম্পানি যদি ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ শেয়ারপ্রতি ৩০ টাকা ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করে, তাহলে এনএভির চেয়ে আইপিওর ইস্যু মূল্য বেশি নির্ধারিত হয়। যা বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষের সৃষ্টি করতে পারে। এই অসন্তোষ যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কোম্পানিগুলো এনএভির নিচে আইপিওর ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি এনএভি যদি ১৫ টাকা নির্ধারিত হয়, তাহলে সে কোম্পানির প্রিমিয়াম ছাড়া ফেস ভ্যালু ১০ টাকায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন সহজে মিলতে পারে।

এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের দেখানো হচ্ছে যে, কোম্পানিকে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা দেয়া হচ্ছে, অথচ কোম্পানির সম্পদ রয়েছে শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা। অর্থাৎ এই কোম্পানির শেয়ার কিনলে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন। এদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে অনেক কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে এনএভির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রধান ইস্যু হচ্ছে রি-ভ্যালুয়েশন বা পুনঃমূল্যায়ন। কোম্পানির সম্পদের পূর্বের মূল্য ও বর্তমান মূল্য বের করার জন্য পুনঃমূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

জানা যায়, কোম্পানিগুলো ইজারা নেয়া সম্পত্তি, পুরাতন মেশিনারিজ ছাড়া অফিসের মালামাল পর্যন্ত সম্পদের পুনঃমূল্যায়নের আওতায় আনছে। অথচ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশিত সম্পদ পুনঃমূল্যায়নের গাইডলাইনে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যেসব সম্পদ পুনঃমূল্যায়ন করা যাবে না সে বিষয়ে বিএসইসির গাইডলাইনে ৩ ভাগে মোট ৩৫টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইজারাকৃত জমি ও ভবন যেগুলোর স্থানান্তরের অধিকার নেই, এগুলো পুনঃমূল্যায়িত হবে না। এক্ষেত্রে মোট সম্পদ ইজারার সময় নিম্নে ৯৯ বছর এবং অবশিষ্ট ইজারার সময় নিম্নে ১০ বছর পর্যন্ত করা যাবে। সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিকন্ডিশন প্লান্ট এবং মেশিনারিজ, ব্র্যান্ড নিউ কন্ডিশন কিন্তু আয়ুষ্কাল অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে--এমন সম্পদ পুনঃমূল্যায়িত করা যাবে না।

এছাড়া, টিনসেড বিল্ডিং এবং তৈরিকৃত বিল্ডিং যেগুলোর আয়ুষ্কাল অর্ধেক শেষ হয়েছে, এগুলোর পুনঃমূল্যায়ন করা যাবে না। যানবাহন, ফার্নিচার অ্যান্ড ফিটিংস, অফিস ইক্যুইপমেন্ট, লুজ টুলস এবং অদৃশ্য সম্পদ পুনঃমূল্যায়ন করা যাবে না। এছাড়া রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস থেকে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ইস্যু করা যাবে না। বিএসইসির আইনে এরকম কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোম্পানিগুলো তা মানছে না।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়ায় একাধিক কোম্পানির ক্ষেত্রে এই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যের জমিতে নিজেদের ভাড়া করা ফ্যাক্টরি স্থাপন কিংবা অন্যের ব্যবহার করা ফ্যাক্টরীকে নিজের দাবি করে তা প্রসপেক্টাসে দেখানো হচ্ছে।

নীতিনির্ধারণী মহলের প্রত্যক্ষ দর্শনের অভাব আর কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজারের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতায় কোম্পানিগুলো এই অনিয়ম করে যাচ্ছে। তবে এসব বিষয় পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কোম্পানিগুলোর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি যেগুলো পুন:মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সরজমিনে পরিদর্শন করা অপরিহার্য বলে মনে করেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
সম্পদমুল্য নিয়ে চলছে সীমাহীন কারসাজি! সম্পদমুল্য নিয়ে চলছে সীমাহীন কারসাজি! Reviewed by Writews on September 30, 2017 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.